কীভাবে নিরাপদ থাকবেন মশার হাত থেকে?

বৃষ্টিবাদলার দিনে মশার উৎপাত এক লাফে বেড়ে যায় বেশ অনেকখানি। এছাড়া সামনেই আসছে বর্ষাকাল। আগে থেকেই বলা হচ্ছে, এ বছরে বাড়তে পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ। সব মিলিয়ে মশার হাত থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার সঙ্গে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে ব্যক্তিগতভাবেও।

এসেনশিয়াল অয়েলের ব্যবহার: লেমন, ইউক্যালিপটাস, সিনামন কিংবা সিট্রনেলা এসেনশিয়াল অয়েল মশাসহ বেশ কিছু বিরক্তিকর পোকামাকড়কে দূরে রাখবে বলে জানাচ্ছে বায়োমেড রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল। উদ্ভিজ ভিত্তিজ এ সকল এসেশনশিয়াল অয়েলে তৈরি হয় প্রাকৃতিক উপাদান ও গাছের কেলিক্যালজাত তেল থেকে।

যার ঘ্রাণ মশা ও পোকামাকড় সহ্য করতে পারে না। এসেনশিয়াল অয়েক কয়েক ফোটা ব্যবহারই যথেষ্ট। তাই স্প্রে বোতলের অর্ধেক পরিমাণ পানি ও যে কোন একটি এসেনশিয়াল অয়েল ৫-৬ ফোঁটা পানিতে মিশিয়ে ঘরের আনাচে কানাচে স্প্রে করে নিতে হবে।

ব্যবহার করুন পারফিউম: মশা তাড়াতে পারফিউম ব্যবহারের পরামর্শে অবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে কিছু পারফিউমের ঘ্রাণ মশাকে দূরে রাখতে কার্যকর। জার্নাল অব ইনসেক্ট সায়েন্স ২০১৫ সালে একটি গবেষণার ফল প্রকাশ করে। সে গবেষণায় দেখা গেছে বিশ্ব বিখ্যাত ব্র্যান্ড ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেটের বোমশেল পারফিউম আশ্চর্যজনকভাবে মশাকে দূরে রাখে। মূলত পাউফিউমের ফুল ও ফলের গন্ধের জন্যই মশার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

পোশাক পরুন উজ্জ্বল রঙয়ের: গাড় কিংবা কালো রঙ পছন্দ হলেও, মশার উৎপাত থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইলে হালকা ও উজ্জ্বল রঙয়ের পোশাক নির্বাচন করতে হবে। গাড় ও কালো রঙ কোন এক বিচিত্র কারণে মশা ও কিছু পোকামাকড়কে তুলনামূলক বেশি আকর্ষণ করে। এ কারণেই অন্ধকার স্থানে মশার উপস্থিতি বেশি থাকে।

ঘর রাখুন আলোকিত: আগের পয়েন্টেই বলা হচ্ছিল যে অন্ধকারাছন্ন স্থানে মশার উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। প্যারাসাইট অ্যান্ড ভেক্টরস নামক জার্নাল জানাচ্ছে, রাতের বেলা লাইটের উজ্জ্বল আলো মশার কামড় দেওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে আনে।

নিয়মিত গোসল করুন ও শরীর পরিচ্ছন্ন রাখুন: মানুষের শরীরে মশার কামড় দেওয়ার বহু কারণের মধ্যে অন্যতম প্রধান হল- মানুষের শরীরে ঘামের ঘ্রাণ। ঘামের ল্যাকটিক অ্যাসিডের উপস্থিতি থেকে মশার আকর্ষণ তৈরি হয়। ভালোভাবে গোসল করার ফলে শরীর থেকে ঘাম ও ঘামের গন্ধ দূর করা সম্ভব হয়।

তবে দিনে একবার গোসল করে সারাদিন না ঘেমে থাকা সম্ভব হয়। সেক্ষেত্রে ঘাম হলেও উষ্ণ পানিতে ভেজা তোয়ালের সাহায্যে শরীর মুছে নিতে হবে। এতে করে ঠান্ডার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না এবং মশার হাত থেকে বেশ অনেকটা নিরাপদ থাকা সম্ভব হবে।

About admin

Check Also

ইফতারে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

রোজার গুরুত্বপূর্ণ দু’টি অংশ হলো সেহরি ও ইফতার। সেহরি খেয়ে রোজা রাখা এবং ইফতার দিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *